নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী
রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মিলিক বাঘা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান সুমন। রাজশাহী জেলা যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার অসহায়, দরিদ্র, কর্মহীন ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, খেলাধুলা, পরিবেশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তার উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।
মিজানুর রহমান সুমনের পারিবারিক পরিচয়ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বাবা আব্দুস সামাদ ছিলেন একজন সাবেক কৃতি ফুটবলার এবং বাঘা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের সদস্য।
ময়লার স্তুপ থেকে পরিচ্ছন্ন ও বসার জায়গাঃ
স্থানীয় এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে জমে থাকা ময়লার স্তুপ পরিষ্কারে নিজ উদ্যোগে কাজ করেন সুমন। ময়লা অপসারণের পর ওই স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের বসার জন্য জায়গা তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি।
জ্বালানি সংকটে ১ হাজার ৫০০ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে সহায়তা
দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের সময় কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিজ অর্থায়নে দুই ধাপে এলাকার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে বিনামূল্যে জ্বালানি তেল সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।
এ ছাড়া রাস্তায় চলার সময় কোনো মোটরসাইকেলের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নিজের গাড়ি থেকে তেল বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চিকিৎসাসেবায় জরুরি সহায়তা
সুমনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা। অসচ্ছল রোগী ও মরদেহ বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া প্রদান, সামর্থ্যহীন রোগীদের ওষুধ কিনে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল পরিশোধ এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বাঘা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের জরুরি প্রয়োজনেও নিজ অর্থায়নে ওষুধ কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বিপি মেশিন, অক্সিমিটার, ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্র ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব সেবা মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইস রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
করোনা ও বন্যায় খাদ্য সহায়তা
করোনা মহামারির সময় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা করেন সুমন। এছাড়া বন্যার সময় প্রায় ৩০০ পরিবারকে শুকনো খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল ও খাদ্যসামগ্রী এবং কোরবানির ঈদে অসচ্ছল মানুষের মাঝে মাংস বিতরণও করেছেন তিনি।
রমজান মাসে এলাকার বিভিন্ন মসজিদে রোজাদারদের ইফতার করানোর পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে কর্মহীন ও অসহায় মানুষের বাড়িতে গোপনে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অসহায় মানুষের পাশে নীরবে সহায়তাঃ
জনসেবার ক্ষেত্রে প্রকাশ্য উদ্যোগের পাশাপাশি অনেক কাজ নীরবে করার চেষ্টা করেন মিজানুর রহমান সুমন। অসহায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী গোপনে নগদ অর্থ সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের ঘরের চালা মেরামতের জন্য টিন প্রদান এবং অসচ্ছল ভ্যানচালকের নষ্ট ভ্যান মেরামতে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মতো কার্যক্রমও রয়েছে তার তালিকায়।
তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহঃ
তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। এ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগঃ
বাঘা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুর্ভোগপূর্ণ রাস্তা তৈরি ও সংস্কারের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুমন। কোথাও প্রাথমিকভাবে নিজ উদ্যোগে কাজ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি ব্যবস্থায় সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাঘা হাইওয়ে সড়ক ও বাঘা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান সংস্কারের দাবিতেও মানববন্ধন করেছেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানুষের পাশেঃ
স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে থাকার কথা জানিয়েছেন মিজানুর রহমান সুমন।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নির্যাতিত ও হয়রানির শিকার মানুষের পাশে থাকার অবস্থানও তার জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ঃ
মিজানুর রহমান সুমনের এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশই ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কার্যক্রম নিয়মিত, আবার কিছু প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন সংকট ও জরুরি প্রয়োজনে পাশে থাকার মাধ্যমে জনসেবাকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মিজানুর রহমান সুমন বলেন, মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই মূল লক্ষ্য। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতদিন পারি অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চায়। সব সময় চেষ্টা করি সমাজের সকল মানুষকে নিয়ে কাঁধে-কাধ মিলিয়ে একসাথে চলতে।
#sbanglanews24 #snews24 #bagha #sumon #help

0 Comments