ডেক্সঃ রাজশাহীর বাঘায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকল ধর্মমতের ও আদর্শ অনুষারিদের ক্ষেত্রমত সহযোগিতা,সহমর্মিতা,শৃঙ্খলাবোধ বজায় রাখার নিমিত্তে এর আয়োজন করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার বলেন, প্রতিমা নির্মাণ হতে বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার সদস্যগণ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিমের দায়িত্ব সমন্বয়ে মন্ডপ ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করবে। পূজামন্ডপ ও মন্ডপের আশেপাশে সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার পরিহার, অনুমতি ব্যতিত পার্শ্ববর্তী স্থানে মেলা/যাত্রা অনুষ্ঠান করা যাবে না।
সীমান্ত এলাকায় স্থাপিত পূজা
মন্ডপ সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবিকে সতর্কতামূলক
কার্যক্রম/পদক্ষেপ গ্রহণসহ পূজামন্ডপের সভাপতি ও সম্পাদককে প্রত্যেক
পূজামন্ডপে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য পূজামন্ডপের আশেপাশে
পর্যাপ্ত পরিমান পানি, বালি ও ভেজা বস্তা রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
মন্ডপ কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে- গঠিত
স্বেচ্ছাসেবী কমিটির সকল সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত পরিচিতি কাডর্,
দূর্গাপূজা চলাকালীন (রাত্রীকালীন) সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিসের ডিজিএমকে অনুরোধ করা
হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারগণ ভিজিলেন্স
টিমের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান নির্বাহি অফিসার। এছাড়াও সিসি ক্যামেরা
স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অফিসার
ইনচার্জ (ওসি) আছাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান
বাবলু,সাবেক সভাপতি সহকারি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন,উপজেলা জামায়াতের আমির
আব্দুল্লাহ আল মামুন,বাঘা পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক তফিকুল ইসলাম
তফি,সাবেক সাধারন সম্পাদক সুরুজ্জামান সুরুজ,বাঘা পৌর জামায়াতের আমির
সহকারি অধ্যাপক সাবদার হোসেন,আলাইপুর সীমান্তের বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার
কামাল হোসেন,উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষীকা মাহফুজা খাতুন,উপজেলা পূজা
উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার(বাকু), সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কুমার
সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের বাঘা শাখার সভাপতি
তাপস কুমার, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন কুমার প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন-কৃষি অর্ফিসার
শফিউল্লাহ সুলতান,প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাঃ আমিনুল ইসলাম, প্রতিবন্ধী সেবা ও
সাহায্য কেন্দ্রের কর্মর্কতা মুনসুর আলী সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের
কর্মকর্তা, বিভিন্ন পূজা মন্ডপের সভাপতি- সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান,এবার৪৬টি মন্ডপে পূঁজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর মন্ডপের সংখ্যা ছিল ৪৮টি।
এবার পূজা কম হওয়ার বিষয়ে সুজিত
কুমার পান্ডে বলেন, প্রতিমা তৈরির কারিগররা সরবরাহ করতে না পারার কারণে
এবার ২টা মন্ডপে পূজা হচ্ছেনা। তবে প্রতিমা বিহীন ৪টি মন্ডপে ঘট পূজা করা
হবে বলে জানিয়েছেন তাপস কুমার।
অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আছাদুজ্জামান জানান, আশঙ্কা এড়াতে পূঁজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
0 Comments