এস বাংলা নিউজ২৪ -এ স্বাগতম

২৪ ঘন্টা পার হলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি তানোরের ছোটো সাজিদকে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:
রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারে দমকল বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার দুপুরে শিশুটি গর্তে পড়ে যাওয়ার পরই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, কোয়েলহাট গ্রামের মাঠের পাশ দিয়ে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় অসাবধানবশত পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে যায় সাজিদ। মায়ের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে উদ্ধার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনটি ইউনিট এসে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিস প্রথম পর্যায়ে চার্জ ভিশন ক্যামেরা দিয়ে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালায়, তবে শিশুর অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এরপর পাশেই এস্কেভেটর দিয়ে রাতভর প্রায় ৩৫ ফুট গভীর বড় একটি গর্ত খনন করা হয়। সকালে সেই গর্ত থেকে নলকূপের দিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করা হলেও সেখানেও শিশুর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন,
“নলকূপের পাশে বিকল্প গর্ত খনন করে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে। যদি এ পথেও শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে আর পাশ দিয়ে খনন করা সম্ভব হবে না। কারণ নলকূপটির গভীরতা ১৫০ থেকে ২০০ ফুট, এর ভেতরে বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য নলকূপে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প কৌশলও নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি মেডিকেল টিম ও স্থানীয় প্রশাসন অবস্থান করছে। শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করে সাজিদের সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছর খানেক আগে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ওই নলকূপ খোঁড়া হয়েছিল। পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়ে নলকূপের মুখ আবারও উন্মুক্ত হয়ে যায়। সেই গর্তেই দুর্ঘটনাবশত পড়ে যায় শিশু সাজিদ।

এ ঘটনায় সার্বিক পরিস্থিতি তদারক করছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মেডিকেল টিম সর্বক্ষণ standby রাখা হয়েছে।

উদ্ধার কাজ চলছে, তবে এখনো শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

Post a Comment

0 Comments