মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আড়ানী বাজারে জিরা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সুজানগরের এক জিরা ব্যবসায়ীকে ছুরির ভয় দেখিয়ে নগদ ২৫ লাখ টাকা, সাড়ে ২৪ লাখ টাকার চেক এবং পকেটে থাকা আরও ৭০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। বুধবার (৬ মে) রাতের এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার মিঠুন চারজনের নাম উল্লেখ করে বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলার বাসিন্দা ফেরদৌস সরদার মিঠুন একজন পাইকারি জিরা ব্যবসায়ী। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আড়ানী পালপাড়া গ্রামের চিনি ব্যবসায়ী শান্ত ইসলাম তার কাছ থেকে ৯ হাজার কেজি জিরা কেনার চুক্তি করেন। প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মোট ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার জিরা ট্রাকে করে বুধবার সকালে আড়ানী বাজারে পৌঁছায়।
বুধবার সকালে জিরার চালান বুঝে নেওয়ার পর শান্ত ইসলাম ভুক্তভোগী মিঠুনকে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট টাকার একটি চেক প্রদান করেন। তবে ঘটনার মোড় ঘোরে এর পরেই। ব্যাংক থেকে চেকের টাকা তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শান্ত ও তার সহযোগীরা মিঠুনকে নির্জন এক গলিতে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, চেক এবং সাথে থাকা ব্যক্তিগত ৭২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, শান্ত ইসলাম, সুজাত আহমেদ তুফান, জাহাঙ্গীর হোসেন, সুইট ইসলাম।
এদিকে ট্রাকচালক লালচানের বক্তব্যে ঘটনাটি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। তিনি জানান, মোট ৯ হাজার কেজি জিরার মধ্যে অর্ধেক (৪,৫০০ কেজি) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বাকি অংশ একটি গোডাউনে রাখা হয়। মালামালের বিপরীতে একটি ফাঁকা চেক দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে, যা ঘটনার পেছনে বড় কোনো প্রতারক চক্রের হাত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার না পেয়ে বুধবার রাতে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তদের পরিচয়ের তদন্তে বিরিয়ে আসে আরো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য অভিযুক্ত সুজাত আহমেদ তুফান আড়ানী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীর হোসেন, বাঘা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং শান্ত ও সুইট ইসলাম ( তুফানের ভাগিনা) তারা আড়ানী পৌর যুবদলের সক্রিয় কর্মী।
এই বিষয়ে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা ছিল রাজশাহীর আলোচিত একটি ঘটনা, তবে ৭মে রাতে শেষ পর্যন্ত উভই পক্ষের মধ্যে একটি সমাধান টানা হয়েছে, এক সালিশি বৈঠকে ব্যবসায়িকে ১১০ বস্তা জিরা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে তবে ২৩লাখ ৪৩হাজার টাকা এখনো পাবে ব্যবসায়ি আগামী রবিবার সেই টাকা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত তুফানের সাথে কথা বলার জন্য ফোন দিলের তার নম্বর বন্ধ থাকায়, যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল হক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি বৃহস্পতিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই অপরাধের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

0 Comments